শিরোনাম
মুনীর চৌধুরী : | ০৫:৪৭ পিএম, ২০২৬-০৬-০৭
সেই রোদে রিকশা নিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে ৮১ বছরের রমিজ উদ্দিন। তার পাশেই অবিরাম ছুটে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
সবাই অটোরিকশার যাত্রী। রমিজ উদ্দিনের যাত্রী হাতেগোনা। রোববার (৭ জুন) দুপুরে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে রিকশা নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রমিজ। ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপটে এখন আর আগের মতো আয় নেই তার। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘আগে ভালোই আয় হতো। এখন মানুষ দ্রুত যেতে চায়। ব্যাটারিচালিত রিকশা আসার পর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না কেউ’। ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নে রমিজ উদ্দিনের বাড়ি। দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম শহরে বসবাস। চট্টগ্রাম শহরেই ৪৫ বছর ধরে রিকশা চালান। থাকেন নগরের রাহাত্তরপুল এলাকার মিয়া কলোনিতে। দুই ছেলে তিন মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেদেরও বিয়ে করিয়েন। সবাই নিজেদের মতো করে আলাদা হয়ে গেছে। বৃদ্ধ রমিজ উদ্দিন ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম থাকেন একাই। রিকশা নিয়ে সকাল ৯টায় বের হন রমিজ। সন্ধ্যা নামার আগেই বাড়ি ফিরেন। এখন ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মতো ভাড়া পান তিনি। আগে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা ভাড়া পেতেন। সেই টাকা দিয়ে কোনরকম দুজনের সংসার চলে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে তাঁর এই সংগ্রাম। চলতি পথে তার সংগ্রামী জীবন নিয়ে কথা হয় । তিনি বলেন, ‘প্রতিটি অলিগলিতে অটোরিকশার দাপট। যার কারণে আগের মতো ভাড়া নেই সড়কে। মানুষ আগে যেতে চায়। আমাদের রিকশায় তেমন যেতে চায় না। কষ্ট হলেও জীবিকার তাগিদে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। অসুস্থ হলেও গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়। বাসায় বসে থাকলে খাবার কে দিবে? তাই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি’।রমিজ উদ্দিনের মতো চট্টগ্রাম শহরে এখনো হাজারো প্যাডেলচালিত রিকশাচালক আছেন। যারা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপটের মধ্যে প্যাডেলচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শহরে চলাচলকারী সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশার ভিড়ে তাঁদের সবার অবস্থা প্রায় একই। বয়স বেড়েছে, যান্ত্রিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে আয়। তারপরও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে তাঁদের। শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ হলেও পুলিশকে ম্যানেজ করে চলছে এসব রিকশা।
নগরের হামজারবাগ এলাকার শাহজাহান সোসাইটির সামনে ভাড়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আরেক প্যাডেলচালিত রিকশাচালক ষাটোর্ধ্ব হানিফ মিয়া। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। ক্লান্ত শরীরে রিকশার হ্যান্ডেলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। চোখেমুখে ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার ছাপ। হামজারবাগ এলাকার মাজার গলিতে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকেন। হানিফ মিয়ার এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলের আলাদা সংসার। সে এলাকায় অটোরিকশার দাপট। প্যাডেলচালিত রিকশার তেমন একটা ভাড়া নেই।
হানিফ মিয়া বলেন, ‘২০ বছর চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় রিকশা চালাই। শুরুতে ভালোই আয় হয়েছে। তখন ব্যাটারি রিকশা ছিলো না। এখন সব জায়গায় ব্যাটারি রিকশা। আমাদের এখন যে আয় সে আয় দিয়ে সংসারও ঠিকমতো চলে না। আমরা ১০০ টাকা আয় করতে করতে ব্যাটারি রিকশাওয়ালা ৪০০ থেকে ৫০০ থেকে টাকা আয় করে’।
অক্সিজেন এলাকার আরেক রিকশাচালক নাছির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। তিনি বলেন, প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। পুলিশকে টাকা দিয়ে তারা পুরো সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে পুলিশও লাভবান হচ্ছে। এসব গাড়ি একবার ধরলে পুলিশ ৫০০ টাকা পায়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের মতো যাত্রী পাওয়া যায় না। প্যাডেল রিকশা দেখলে মানুষ উঠতে চায় না। আমার দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মতো আয় হয়। এরমধ্যে আমি দৈনিক ২০০ টাকার বিনিময়ে একটা স্কুল যাত্রীকে আনা-নেওয়া করি’।
নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক যাত্রীর কাছ থেকà...বিস্তারিত
চবি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০২৬ এর ৪ ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিএমপির উদ্যোগে তিনদিন মেয়াদি ওয়াচার কনস্টেবলদের ‘দক্ষতা উন্নয়ন কো...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : আহমদ উল্লাহ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ মনি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited